প্রতিষ্ঠানটি প্রথমবারের মতো বিদেশের মাটিতে সবচেয়ে শক্তিশালী এআই সুপারকম্পিউটার প্রদর্শনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। হুয়াওয়ের দাবি, এ উদ্ভাবন বর্তমান বাজার দাপিয়ে বেড়ানো মার্কিন চিপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এনভিডিয়ার সমকক্ষ। খবর নিক্কেই এশিয়া।
হুয়াওয়ের নতুন উদ্ভাবনটির নাম ‘অ্যাটলাস ৯৫০ সুপারপড’। এটি মূলত এআই ডেটা সেন্টারের জন্য তৈরি একটি অত্যাধুনিক সিস্টেম, যেখানে হুয়াওয়ের নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি ৮ হাজার ১৯২টি অ্যাসেন্ড ৯৫০ ডিটি চিপ সংযুক্ত করা হয়েছে।
সুপারকম্পিউটারটি গত বছরের সেপ্টেম্বরে চীনে উন্মোচন করা হলেও এবারই প্রথম আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উপস্থাপন করা হচ্ছে। স্পেনের বার্সেলোনায় গতকাল শুরু হওয়া বিশ্বের বৃহত্তম মোবাইল প্রযুক্তি সম্মেলন মোবাইল ওয়ার্ল্ড কংগ্রেস বা এমডব্লিউসিতে সুপারকম্পিউটারটি প্রদর্শন করবে হুয়াওয়ে।
বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কবলে থাকা হুয়াওয়ের এ আন্তর্জাতিক প্রদর্শনী মূলত বিশ্ববাজারে নিজেদের সক্ষমতা প্রমাণের একটি বড় পদক্ষেপ। বিশেষ করে এনভিডিয়ার জিপিইউর বিকল্প হিসেবে অ্যাটলাস ৯৫০-কে তুলে ধরে বৈশ্বিক এআই অবকাঠামো খাতে নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করতে চাইছে প্রতিষ্ঠানটি।
হুয়াওয়ের তথ্যমতে, সুপারপড এমন একধরনের লজিক্যাল মেশিন, যা বেশকিছু ফিজিক্যাল মেশিনের সমন্বয়ে গঠিত। এটি একটি একক সুপারকম্পিউটার হিসেবে শেখা, চিন্তা করা ও যুক্তি প্রদানের সক্ষমতা রাখে।
এবারের এমডব্লিউসি সম্মেলনে হুয়াওয়ে সাধারণ কম্পিউটিং সমাধান হিসেবে ‘তাইশান ৯৫০ সুপারপড’ প্রদর্শন করবে। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটির নেক্সট-জেনারেশন সার্ভার ‘তাইশান ৫০০’ এবং ‘তাইশান ২০০’-ও সেখানে দেখা যাবে।
টেক জায়ান্টটি জানিয়েছে, চলতি বছরের শেষ প্রান্তিক (অক্টোবর-ডিসেম্বর) থেকে বাজারে বিক্রির জন্য উন্মুক্ত করা হবে সুপারপড। হুয়াওয়ে আরো জানিয়েছে যে কোম্পানিটি চলতি বছর বেশকিছু নতুন প্রজন্মের এআই চিপ বাজারে আনবে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, নতুন চিপগুলো তৈরি করা হবে চীনের সেমিকন্ডাক্টর ম্যানুফ্যাকচারিং ইন্টারন্যাশনাল করপোরেশনের সর্বাধুনিক ‘এন+থ্রি’ প্রযুক্তিতে। এটি চীনের অভ্যন্তরীণভাবে তৈরি চিপ উৎপাদনের সবচেয়ে উন্নত বা কাটিং-এজের একটি সংস্করণ।
হুয়াওয়ের দাবি, পূর্ণ সক্ষমতায় একটি অ্যাটলাস ৯৫০ সুপারপডে থাকবে মোট ১২৮টি কম্পিউট ক্যাবিনেট ও ৩২টি কমিউনিকেশন ক্যাবিনেট। বিশাল এ সিস্টেমের প্রতিটি সার্ভার অপটিক্যাল প্রযুক্তি ও হুয়াওয়ের নিজস্ব কানেক্টিভিটি সলিউশনের মাধ্যমে একে অন্যের সঙ্গে যুক্ত থাকবে। ফলে ডেটা ট্রান্সফার ও কম্পিউটিং পারফরম্যান্স বহুগুণ বেড়ে যাবে।
এছাড়া বিশাল সুপারকম্পিউটারটি স্থাপন করতে প্রায় এক হাজার বর্গমিটার জায়গার প্রয়োজন হবে, যা আয়তনের দিক থেকে প্রায় চারটি টেনিস কোর্টের সমান।
হুয়াওয়ের রোটেটিং চেয়ারম্যান এরিক সু গত সেপ্টেম্বরে এক বক্তব্যে সরাসরি এনভিডিয়ার সঙ্গে প্রতিযোগিতার বিষয়টি স্পষ্ট করেছেন। তিনি বলেন, ‘উন্নত চিপ তৈরির সরঞ্জাম ও বিদেশী অংশীদারদের ওপর আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার কারণে হুয়াওয়ে হয়তো চিপ-টু-চিপ (প্রতিটি আলাদা চিপের ক্ষেত্রে) পারফরম্যান্সে এনভিডিয়ার সমান হতে পারবে না। তবে অসংখ্য চিপকে একত্রে বিশাল কম্পিউটিং ক্লাস্টারে রূপান্তর করা হলে হুয়াওয়ে তার মার্কিন প্রতিদ্বন্দ্বীকে ছাড়িয়ে যেতে পারে।’
উল্লেখ্য, মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে হুয়াওয়ে বর্তমানে দুটি বড় সমস্যার সম্মুখীন। এক. উন্নত চিপ তৈরির আধুনিক যন্ত্রপাতি কিনতে না পারা। দুই. তাইওয়ানের টিএসএমসি বা দক্ষিণ কোরিয়ার স্যামসাংয়ের মতো বড় চিপ প্রস্তুতকারকদের দিয়ে চিপ তৈরিতে বাধার মুখে পড়ে।